উমরাহ্ কাহাকে বলে? একনজরে উমরাহর কার্যক্রম ও হুকুম (উমরাহর ধারাবাহিক ও বিস্তারিত কার্যবিবরণী)

পবিত্র উমরাহর বিবরণ

উমরাহ্ কাহাকে বলে? - ১

হজ্বের জন্য নির্ধারিত দিনগুলি ব্যতীত (৮ যিলহাজ্ব- থেকে ১২ যিলহাজ্ব) বছরের অন্য যে কোনো সময়ে শরীয়তের বিধান অনুসারে উমরাহর নির্ধারিত ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাত কাজগুলো যথানিয়মে, যথাস্থানে এবং ধারাবাহিকভাবে সম্পাদন করাকে উমরাহ্ বলে। ৮ থেকে ১২ যিলহজ্ব, এ ৫ দিন পবিত্র হজ্বের জন্য নির্ধারিত তাই এসময়ে উমরাহ্ করা মাকরূহ।

২। একজন মুসলিম মহিলা-পুরুষের জন্য জীবনে একবার উমরাহ্ করা সুন্নাত। একাধিকবার উমরাহ্ করা নফল ইবাদাত হিসেবে গণ্য। কিন্তু পবিত্র হজ্ব করতে গিয়ে তামাত্তু ও কিরাণ হাজীদেরকে মক্কা শরীফে পৌঁছেই প্রথমে একটি উমরাহ্ করতে হয়। এটি জরুরী উমরাহ্।

নির্ভুল এবং সুচারুরূপে এ উমরাহ্ পালন করার জন্য একজন হাজীকে উমরাহর সকল নিয়ম-কানুন, বিধি-বিধানগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জানতে ও মানতে হবে। হজ্ব সফরের প্রথম আ’মলটিতেই (উমরাহ্ করতে) ভুল-ভ্রান্তি হয়ে গেলে শুধু আফ্সোস করতে হবে, আর অনুতাপ করতে হবে। তাছাড়া কোনো কোনো ভুলের জন্য আবার দমও দিতে হবে। তাই আমি প্রথমেই উমরাহ্ করার সকল নিয়ম-কানুন ও বিধিবিধানগুলো এখানে বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করলাম। 

উমরাহ্ করতে হলে প্রথমেই ইহরাম বাঁধা ফরজ। ইহরামের অনেকগুলো কাজের মধ্যে নিয়ত করা ও তালবিয়াহ্ পড়া ফরজ। ইহরাম অবস্থায় তালবিয়াহ্ পড়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ আ’মল। ইহরামের বিস্তারিত নিয়মকানুন ইহরামের অধ্যায়ের পোষ্ট পড়ূন।

একনজরে উমরাহর কার্যক্রম ও হুকুম - ৩

কি কি কাজগুলো করলে একটি উমরাহ্ করা হয় ? নিম্ন লিখিত কাজগুলো সম্পন্ন করলে একটি উমরাহ্ করা হয় - কার্যক্রম ও হুকুম

১। ইহরাম বাঁধা - ফরজ

২। কা’বা শরীফ তওয়াফ করা (৭ চক্কর পূর্ণ করা) - ফরজ

৩। মাকামে ইব্রাহীমের পেছনে অথবা মসজিদের যেকোনো স্থানে ২ রাকা’আত ওয়াজিবুত তওয়াফ নামাজ পড়া - ওয়াজিব।

৪। যমযমের পানি পান করা - সুন্নাত

৫। সায়ী করতে যাওয়ার পূর্বে হাজরে আসওয়াদকে চুম্বন করা - সুন্নাত।

৬। সাফা-মারওয়া ৭ বার সায়ী করা - ওয়াজিব।

৭। মাথা মুন্ডন করা বা সম্পূর্ণ মাথার চুল ছাঁটা - ওয়াজিব।

 তালবিয়াহ

তালবিয়াহ

৪। ‘লাব্বাইকা আল্লহুম্মা লাব্বাইক, লাব্বাইকা লা-শারীকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হাম্দা ওয়ান্ নি’মাতা লাকা ওয়াল মুল্ক, লা-শারীকা লাক্’।

অর্থ : ‘আমি হাজির, হে আল্লহ্ আমি হাজির, আমি হাজির, কোনো অংশীদার নাই তোমার, আমি হাজির, নিশ্চয়ই সকল প্রশংসা ও নিয়ামতসমূহ তোমারই, আর সকল সাম্রাজ্যও তোমার, কোনো অংশীদার নাই তোমার’।

৫। উমরাহর নিয়তঃ ‘হে আল্লহ্! আমি উমরাহ্ করার জন্য নিয়ত করলাম। ইহা তুমি আমার জন্য সহজ করে দাও এবং কবুল করো।’ নিয়ত মনে মনে করতে হয়। মুখে উচ্চারণ করলেও কোনো গুনাহ্ নেই।

৬। উমরাহর ফরজঃ ২ টি । 

যথা :

ক। মীকাতে অথবা মীকাত অতিক্রম করার পূর্বেই ইহরাম বাঁধা, তথা ইহরাম অবস্থা ধারণ করা।

খ। আল্লহর ঘর তওয়াফ করা (অর্থাৎ সাত চক্কর ঘোরা)।

৭। উমরাহর ওয়াজিবঃ ২টি। 

যথা :

ক। সাফা-মারওয়ার মধ্যবর্তীস্থানে ৭ বার যাওয়া-আসা (সায়ী) করা।

খ। মাথা মুন্ডন করা বা মাথার সম্পূর্ণ চুল ছাঁটা। মহিলাদের চুলের সম্পূর্ণ গোছার অগ্রভাগ থেকে আঙ্গুলের এক কড়া বা এক ইঞ্চি পরিমাণ কেটে ফেলা।

৮। উমরাহর সুন্নাতসমূহঃ ৬টি

ক। তওয়াফ করার সময় ইজতিবা ও রমল করা।

খ। তওয়াফ শুরু করার সময় হাজরে আস্ওয়াদকে চুম্বন করে অথবা হাত দিয়ে স্পর্শ করে অথবা ডান হাত উত্তোলন করে হাতের তালু দিয়ে ইশারা করে ‘আল্লহু আকবার’ তাকবীর বলা।

গ। তওয়াফ করার সময় সম্ভব হলে রুক্ণে ইয়ামানী ডান হাত দিয়ে স্পর্শ করা। (কা’বার গিলাফের একটি অংশ গোলাকৃতি করে কাটা থাকে, যাতে মূল দেয়াল দেখা যায়)

ঘ। তওয়াফ শেষ করে মাকামে ইব্রাহীমের পিছনে অথবা মাতাফের বা মসজিদের ভেতর যেকোনো স্থানে দু’রাকাআ’ত ওয়াজিব সালাত আদায় করা।

ঙ। সালাত শেষ করে যমযমের পানি পান করা।

চ। সাফা-মারওয়ার মধ্যবর্তীস্থানে সবুজ লাইট দ্বারা চিহ্নিত স্থানে পুরুষদের জন্য মধ্যম গতিতে দৌড়ে চলা।

বিঃ দ্রঃ

(১) ইহরামে আবার দুটি কাজ ফরয। 

যথা: (ক) নিয়ত করা ও (খ) তাল্বিয়াহ্ পড়া।

(২) তওয়াফ করার সময় তওয়াফের নিয়ত করা ফরয।

(৩) তওয়াফের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি ওয়াজিব হল মাকামে ইব্রাহীমের’ পেছনে বা আশে পাশে দু’রাকআত ওয়াজিবুত তওয়াফ নামাজ আদায় করা।

(৪) উপরোল্লিখিত ফরজ ও ওয়াজিব কাজগুলো ছাড়া উমরাহ্ করার সময় অন্যান্য যে সব আ’মল করতে হয়, সেগুলো সুন্নাত ও মুস্তাহাব।

উমরাহর ধারাবাহিক ও বিস্তারিত কার্যবিবরণী

১। যথানিয়মে এবং ধারাবাহিকভাবে নিম্ন লিখিত আ’মলগুলো করলে একটি উমরাহ্ করা হবে। ‘মীকাত’ অতিক্রম করার পূর্বেই সুন্নাত তরীকায় ইহরাম বাঁধতে হবে। ইহরাম ছাড়া ‘মীকাত’ অতিক্রম করা নিষেধ। ইহরাম ছাড়া মীকাত অতিক্রম করলে ‘দম’ দেওয়া ওয়াজিব। ইহরাম বাঁধা উমরাহর প্রথম ফরজ আ’মল।

২। ইহরামের পোশাক পরিধান করে দুরাকাআ’ত সুন্নাত নামাজ পড়া।

প্রথম রাকাআ’তে সূরাঃ ফাতিহার পরে সূরাঃ কাফিরুন এবং দ্বিতীয় রাকাআ’তে সূরাঃ ফাতিহার পরে সূরাঃ ইখলাস পড়ে যথা নিয়মে নামাজ শেষ করুন। কোনো ওয়াক্তের ফরয নামাজ আদায় করে ইহরাম বাঁধলে, ইহরাম বাঁধার জন্য আলাদা সুন্নাত নামাজ পড়তে হবে না।

৩। নামাজের পরপরই জায়নামাযে বসেই উমরাহর নিয়ত করা। উমরাহর নিয়ত করা ফরয। নিয়ত মনে মনে করতে হয়, মুখে উচ্চারণ করলেও গুনাহ্ নেই। (নিয়তঃ হে আল্লহ্! আমি উমরাহ্ করার জন্য নিয়ত করলাম। তুমি আমার জন্য উমরাহ্ কাজগুলো সহজ করে দাও এবং কবুল কর)। নিয়ত করার পরে ১ বার ‘তালবিয়াহ্’ পড়া ফরজ এবং ৩ বার পড়া সুন্নাত।

৪। উমরাহর প্রথম ফরজ আ’মলই হল ‘তালবিয়াহ্’ পাঠ করা। তালবিয়াহ্ পাঠ করা ছাড়া উমরাহর ইহরাম ই বাঁধা সম্পন্ন হয় না। তাই তালবিয়াহর প্রতিটি শব্দের অর্থ বুঝে বুঝে সঠিক উচ্চারণে পাঠ করতে হবে। তাই সঠিকভাবে তালবিয়াহ শিখে বারবার অনুশীলন করে নিন।

৫। এখানে উল্লেখ্য যে, নিজ বাড়ি থেকে পূর্ণ ইহরাম না বেঁধে শুধু ইহরামের পোশাক পরে দু’রাকাআত সুন্নাত নামাজ আদায় করে হজ্ব বা উমরাহর জন্য যাত্রা করে মীকাতে পৌঁছে উমরাহর নিয়ত করে তালবিয়াহ্ পড়ে ইহরাম বাঁধা যায়। তবে উপরের ২, ৩ ও ৪ নং অনুচ্ছেদে উল্লেখিত নিয়ম অনুসরণ করাই উত্তম। কেননা ইহরাম বাঁধার পরে একজন মানুষ সম্পূর্ণভাবে আল্লহর দিকে ঝুঁকে যায়, তার মধ্যে আমূল পরিবর্তন ঘটে এবং অন্তরে আল্লহর ভীতি সৃষ্টি হয়। তাছাড়া ইহরাম অবস্থায় সফর করলে সকল প্রকার নিষিদ্ধ কাজ-কর্ম থেকে নিজেকে হেফাজত করা যায়। সুতরাং ইহরাম অবস্থায় সফর করা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ। 

বর্তমানে ফ্লাইট শিডিউলের বিপর্যয়ের কারণে ইহরামের ফরয কাজ দুটি (নিয়ত করা ও তালবিয়াহ্) বিমানবন্দরে পৌঁছে বিমান ছাড়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে ইহরাম বেঁধে বিমানে উঠলে ভাল হয়।

৬। ইহরাম বাঁধার পর থেকে পবিত্র মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করে পবিত্র কা’বা শরীফের চারদিকে তওয়াফ আরম্ভ করার পূর্ব পর্যন্ত বেশী বেশী তালবিয়াহ্ পাঠ করতে থাকা। তওয়াফের নিয়ত করার পূর্বেই তালবিয়াহ পড়া বন্ধ করা।

৭। মক্কা শরীফে পৌঁছে উমরাহর দ্বিতীয় ফরজ কাজ হলো পবিত্র কা’বা শরীফ ‘তওয়াফ’ করা। এ উদ্দেশ্যে মাসজিদে প্রবেশের দুআ’ পড়ে মাসজিদুল হারামে প্রবেশ করুন এবং মাসজিদের ভেতর দিয়ে কা’বার দিকে অগ্রসর হউন।

৮। মাসজিদের ভেতর দিয়ে কিছুদূর অগ্রসর হওয়ার পর পবিত্র কা’বা শরীফ নজরে আসার সাথে সাথে সুবিধামত স্থানে দাঁড়িয়ে মনের আকুতি মিনতি দিয়ে দুআ’ করুন। এ মুহূর্তটি দুআ’ কবুলের উত্তম সময়।

৯। তারপর মাতাফে নেমে হাজরে আস্ওয়াদের কোণা বরাবর এসে হাজরে আস্ওয়াদের দিকে মুখ করে দাঁড়ান এবং সম্ভব হলে হাজরে আস্ওয়াদকে চুম্বন করুন (বর্তমান সময়ে চুম্বন করা কিছুতেই সম্ভব হয় না)। চুম্বন করতে না পারলে ডান হাত বুক সমান উত্তোলন করে হাতের তালু দিয়ে হাজরে আস্ওয়াদের দিকে ইশারা করুন এবং তাকবীর বলে তওয়াফ শুরু করার দুআ’ পড়ে তওয়াফ শুরু করুন। 

এখানে সুষ্ঠভাবে এ নিয়মগুলো পালন করতে একটু সময় লাগে। সঠিকভাবে তওয়াফ করতে হলে উল্লেখিত সবগুলো কাজই আপনাকে করতে হবে। এ কাজগুলো সঠিকভাবে পালন করার জন্য কাল্পনিকভাবে অনুীশলন করুন।

১০। ইহরাম অবস্থায় পুরুষ-মহিলা সকলের জন্যই তওয়াফ করা ফরজ। সর্বাবস্থায় নিজের তওয়াফ নিজেকেই করতে হবে। অসুস্থতা/বার্ধক্যজনিত কারণে পায়ে হেঁটে তওয়াফ করতে না পারলে হুইল চেয়ারে বসে তওয়াফ করতে হবে। তওয়াফ করার সময় পুরুষদের জন্য রমল ও ইজতিবা করা সুন্নাত।

মহিলাদের জন্য রমল ও ইজতিবা নেই। পুরুষদের জন্য প্রথম ৩ চক্করে রমল করতে হবে এবং ৭ চক্করেই ইজতিবা করতে হবে। ৭ চক্করের পর ইজতিবা শেষ হয়ে যাবে। ইজতিবা অবস্থায় নামাজ পড়া মাকরূহ। তাই ইহরামের পোশাক পরার নিয়ম শেখার সময় ইজতিবা করার নিয়মও শিখে নেবেন।

১১। তওয়াফ শেষ করে ‘মাকামে ইব্রাহীমের’ পেছনে অর্থাৎ মাকামে ইব্রাহীমকে কা’বা ও আপনার মাঝখানে রেখে ২ রাকাআ’ত ‘ওয়াজিবুত তওয়াফ’ নামাজ আদায় করা। এটি ওয়াজিব আ’মল। হজ্বের সময় মাকামে ইব্রাহীমকে সামনে রেখে বা এটার খুব নিকটে নামাজ পড়ার সুযোগ পাওয়া যায় না। তাই ভিড়ের জন্য মাকামে ইব্রাহীম থেকে কিছু দূরে গিয়ে বা মাসজিদের যেকোনো স্থানে এ নামায পড়লে ওয়াজিব আদায় হয়ে যাবে।

১২। অতঃপর যম্ যম্ কূপের পবিত্র পানি পান করা। এটি সুন্নাত আ’মল। সাফা যাওয়ার পথে দেয়ালে লাগানো পানির ট্যাপ অথবা কন্টেইনারে রাখা পানি থেকে যম্ যম এর পানি পান করতে হবে।

১৩। সাফা-মারওয়া সায়ী করতে যাওয়ার পূর্বে পুনরায় হাজরে-আস্ওয়াদ চুম্বন করা সুন্নাত। কিন্তু বর্তমানে ভিড়ের কারণে এ আ’মলটি করা সম্ভব হয় না। তাই দূর থেকে হাত দিয়ে ইশারা করলেই সুন্নাত আদায় হয়ে যবে।

১৪। এরপর সাফা-মারওয়া পাহাড়ের মধ্যবর্তী স্থানে ৭ বার সায়ী করা। এটি ওয়াজিব আ’মল।

১৫। সবশেষে পুরুষের মাথা মুন্ডন করা অথবা মাথার সম্পূর্ণ চুল মেশিন দিয়ে ছোট করে ছাঁটা। মহিলাদের চুলের গোছার অগ্রভাগ থেকে আঙ্গুলের এক কড়া বা এক ইঞ্চি পরিমাণ চুল কেটে ফেলা। মাথার ২/৩ দিক থেকে কাঁচি দিয়ে একটু একটু চুল কাটলে ওয়াজিব আদায় হবে না। 

অনেক হাজীরা মারওয়াতেই এভাবে চুল কেটে থাকেন। এভাবে তাঁদের ওয়াজিব আদায় হয় না। ফলে তাঁদের উপর ১টি দম ওয়াজিব হয়ে যায়। লক্ষ লক্ষ হাজী এ ব্যাপারে যত্নবান নয়। ফলে তাঁদের ওয়াজিব আদায় হয় না। অজ্ঞতার কারণে তাঁরা ‘দম’ আদায় করে না। ফলে তাঁদের উমরাহ্ ত্রুটিপূর্ণ থেকে যায়।

(এ ভাবে উপরের কাজগুলো সুচারুরূপে ও ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন করলে একটি উমরাহ্ সম্পন্ন করা হয়)

বিঃ দ্রঃ

(১) অতঃপর নিজের রুমে এসে ইহরমের কাপড় খুলে অর্থাৎ ইহরাম মুক্ত হয়ে সাধারণ পোশাক পরে স্বাভাবিক কাজকর্ম/ইবাদাত বন্দেগী করা।

(২) মক্কা শরীফে অবস্থানকালে বেশী বেশী নফল উমরাহ্ না করে বেশী বেশী

আল্লহর ঘর তওয়াফ করাই অধিক সওয়াবের কাজ। এখানে উল্লেখ্য, হজ্বের সফরে রসূল (সঃ) এবং সাহাবাগণ কোনো নফল তওয়াফ করেননি।

(৩) যে তওয়াফের পরে সায়ী আছে সে তওয়াফের প্রথম ৩ চক্করে রমল করতে হয়। কিন্তু কেউ যদি প্রথম ৩ চক্করে রমল করতে ভুলে যায়, তাহলে তাঁকে পরবর্তী ৪ চক্করে বাদ পড়া রমল করতে হবে না এবং এ ভুলের জন্য কোনো দমও দিতে হবে না।

(৪) কিন্তু কারো যদি ১ম চক্করের পরে রমলের কথা মনে পড়ে, তাহলে সে পরের ২ চক্করে রমল করবেন। আর যদি ২য় চক্করের পরে রমলের কথা মনে পড়ে, তাহলে শুধু ৩য় চক্করে রমল করবেন। কারণ রমলের কোনো কাযা নেই।

(৫) নফল তওয়াফের পরে সায়ী নেই, তাই সে তওয়াফে রমলও নেই। নফল তওয়াফ সাধারণ পোশাক পরেই করতে হয়। তাই ইজতিবাও নেই।

(৬) বর্তমানে যম্ যম্ কূপে যাওয়া যাবে না, তবে পানি পানের জন্য যে বিকল্প ব্যবস্থা করা হয়েছে সেখানে গিয়ে পানি পান করতে হবে। তাছাড়া মাসজিদুল হারামের ভেতরে বিভিন্ন স্থানে অসংখ্য পানির পাত্র (কন্টেইনার) রাখা আছে। সেগুলো থেকে পানি পান করা জায়েয।

(৭) যদি কেউ শুধু উমরাহ্ করার জন্য মক্কা শরীফে যান তাহলে তিনি মক্কা থেকে বিদায় হওয়ার পূর্বে অবশ্যই বিদায়ী তওয়াফ করবেন কিন্তু সেটা ওয়াজিব তওয়াফ নয়। শুধু হজ্বের সময় বিদায়ী তওয়াফ করা ওয়াজিব।

Next Post Previous Post
No Comment
Add Comment
comment url