Wednesday, February 21, 2018

মসজিদে আকসায় জুমুয়ার নামাজ নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে সমগ্র তুরস্ক........


মসজিদে আকসায় জুমুয়ার নামাজ নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে সমগ্র তুরস্ক। তুরস্কের প্রায় ৫০০ স্থানে আজ বিক্ষোভ সমাবেশ ও শহীদ ফিলিস্তিনীদের জন্য গায়েবানা জানাযা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। এছাড়াও তুরস্কের ইসলামী ফাউন্ডেশন আজ জুমুয়ার জন্য বিশেষ খুতবা প্রস্তুত করে সকল মসজিদে পাঠিয়ে দেয় এবং তুরস্কের নব্বই হাজার মসজিদে একই খুতবা পাঠ করা হয়।
এছাড়াও তুরস্কের ইসলামী ফাউন্ডেশন আজ জুমুয়ার জন্য বিশেষ খুতবা প্রস্তুত করে সকল মসজিদে পাঠিয়ে দেয় এবং তুরস্কের নব্বই হাজার মসজিদে একই খুতবা পাঠ করা হয়।
খুতবায় বলা হয় এই মসজিদ মুসলিমদের প্রথম কেবলা, সকল আসমানী ধর্মের পবিত্র স্থান। এই মসজিদ হল তাওহীদের প্রতীক কেননা ইতিহাসের মহাকাল ধরে এই মসজিদটি তাওহীদের সাক্ষ্য বহন করে আসছে। এই মসজিদে আকসা হযরত ইব্রাহীম (আঃ) হযরত ঈসা (আঃ), হযরত মুসা (আঃ) সহ শত শত নবীর সৃতি বিজড়িত স্থান। এই স্থানকে নামাজের জন্য নিষিদ্ধ করা রীতিমত ফ্যাসিবাদের বহিঃপ্রকাশ।
আমরা সকল মুসলিম দেশের নেতৃবৃন্দকে এই জন্য অনতিবিলম্বে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবী জানাই।
এছাড়াও সবচেয়ে বড় বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয় তুরস্কের ঐতিহাসিক বেয়াজিদ ময়দানে। হাজার হাজার জনতা জুমুয়ার নামাজের পর রাস্তায় নেমে এসে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং আল্লাহু আকবার তাকবীর ধ্বনিতে ইস্তানবুল নগরীকে প্রকম্পিত করে তুলেন। এই সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, তুরস্কের সর্ববৃহৎ বেসরকারী দাতব্য সংস্থা IHH এর সভাপতি অ্যাডভোকেট বুলেন্ত ইলদিরিম।
তিনি তার বক্তব্যে বলেন, আজ আমরা যখন এই ময়দানে দাঁড়িয়ে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ সমাবেশ করছি সেই সময়ে আমাদের নিরস্র ভাইয়েরা মসজিদে আকসায় নামাজ আদায় করার জন্য সন্ত্রাসী রাষ্ট্র ইসরাইলের পুলিশের সাথে সেনাবাহিনীর সাথে লড়াই করছে। আমরা জানি আমাদের সেই ভাইয়েরা বীর পুরুষ তারা মহান আল্লাহ ছাড়া আর কোন শক্তিকে ভয় পায় না। আমরাও এই ময়দান থেকে আমাদের ভাইদের সাথে সংহতি প্রকাশ করছি এবং আমরা ইসরাইল, আমেরিকা, ইউরোপ ও সমগ্র বাতিল শক্তিকে জানিয়ে দিতে চাই আমাদের ভাইয়েরা একা নয় আমরা তাঁদের সাথে আছি এবং থাকব।
তিনি একই সাথে তুরস্কের সরকারকে এর জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে বলেন এবং ইসরাইলের সাথে সকল চুক্তি বাতিল করে তাঁদের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করার আহ্বান জানান। তিনি আরও বলেন ইসরাইলের এই জুলুম নির্যাতনের প্রতিবাদে সরকারকে তাঁদের রাষ্ট্রদূত বহিষ্কারের আহ্বান জানাই।
সমাবেশের অন্যতম আয়োজন এনাতোলিয়ান ইয়ুথ এসোসিইয়েশন এর সংগ্রামী সভাপতি সালিহ তুরহান এক অগ্নি ঝরা বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, আমরা সুলতান ফাতিহর উত্তর সূরী, আমরা কানুনী সুলতান সুলায়মানের উত্তর সূরী, আমরা সালাহউদ্দিন আইয়ুবী, আমরা সুলতান আব্দুল হামিদ হান এবং নাজমুদ্দিন এরবাকানের উত্তর সূরী। আর সুলতান ফাতিহ এবং কানুনী সুলতান সুলায়মানের কবর এই ময়দানের পাশেই অবস্থিত। আজ ইসরাইলের কথা বলা হচ্ছে আমরা ইসরাইল নামে কোন রাষ্ট্রকে চিনি না। তারা নাকি ফিলিস্তিনি ভাইদেরকে বলে, সিনাইতে তাঁদের জায়গা দিয়ে নতুন রাষ্ট্র করে দেওয়া হবে, আমরা এই সমাবেশ থেকে বলতে চাই তোমরাই এখান থেকে চলে যাও এখানে থাকার কোন অধিকার তোমাদের নেই। ফিলিস্তিনের এক ইঞ্চি ভুমিও আমরা কোন দিন ছেড়ে দিব না। তারা বলে কুদুসকে নাকি তাঁদের রাজধানী বানাবে আমরা বলি তাঁদের তেলআবিবকেই তো আমরা স্বীকৃতি দেই না, তাঁদের আবার কিসের রাজধানী?
তিনি আরও বলেন, সুলতান আব্দুল হামিদ হানের ভাষায় বলতে চাই রক্তের ফিলিস্তিনকে আমরা রক্ত দিয়ে কিনেছি এটাকে কেবলমাত্র রক্ত দিয়েই বিক্রি করব অন্য কিছুর বিনিময়ে নয়।সবশেষে তিনি একটি হাদীস বলে সকল মুসলমানদেরকে তাঁদের দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দেন, হাদীস টি হল, রাসূল (সঃ) বলেছেন, তোমরা মসজিদে আকসায় গিয়ে নামাজ পড়, আর যদি নামাজ পড়তে না পার তাহলে তোমাদের বিভিন্ন দিবস সমূহে সেখানে যায়তুনের তেল পাঠাও।
তিনি বলেন, যায়তুনের তেল হল একটি উপমা এর দ্বারা তিনি বুঝিয়েছেন মসজিদে আকসার রক্ষা এবং এর নিরাপত্তার জন্য যা প্রয়োজন তাই পাঠাও। সমাবেশে ফিলিস্তিনি আলেমদের নেতা সহ হামাস নেতাগণ বক্তব্য রাখেন।
আঙ্কারার বিখ্যাত ও প্রাচীন মসজিদ প্রাঙ্গনেও এক বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতেও হাজার হাজার মানুষ অংশ নেয় এবং ধ্বংস হোক ইসরাইল বিক্ষোভে আঙ্কারার আকাশ বাতাস প্রকম্পিত করে তোলে।এছাড়াও কনিয়া, ইজমির, আন্তালিয়া, সিভাস, কজায়েলি সহ আরও অনেক শহরে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

No comments:

Post a Comment